পটুয়াখালীর মহিপুরে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমধর্মী মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে মহিপুর থানা সদরের বাজারের প্রধান সড়ক সোনালী ব্যাংক রোডে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
মহিপুর সচেতন নাগরিক সমাজ, ইয়ুথ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং জিয়া তারুণ্য ক্লাব মহিপুরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সচেতন নাগরিক সমাজের মিজানুর রহমান রিপন, হেদায়েত উল্লাহ দেওয়ান, তোফাজ্জল হোসেন সিপাহী, শাহজাহান কাজী, শাহ-আলম মুন্সি, জাহিদুল ইসলাম রাজিব, আলম সন্নমত, জাহিদুল ইসলাম গাজী, ইয়ুথ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সাইফুল ইসলাম সাগর, জিয়া তারুণ্য ক্লাবের রাইসুল ইসলাম রুপুসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মহিপুরসহ উপকূলীয় অঞ্চলে মাদক এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যা সমাজের জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং সামাজিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে মিজানুর রহমান রিপন বলেন, “মাদকের ভয়াবহতা আমাদের সমাজকে ধীরে ধীরে গ্রাস করছে। এখনই যদি প্রতিরোধ গড়ে তোলা না যায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন ইতোমধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
তোফাজ্জল হোসেন সিপাহী মাদকসেবী ও কারবারিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। ইয়ুথ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সাইফুল ইসলাম সাগর বলেন, “যুবকরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তারা যদি মাদকের অন্ধকারে হারিয়ে যায়, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎও অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।” তিনি তরুণদের জন্য সুস্থ বিনোদন ও কর্মমুখী কার্যক্রম বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জিয়া তারুণ্য ক্লাবের রাইসুল ইসলাম রুপু বলেন, বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তরুণদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, মহিপুর একটি উপকূলীয় মৎস্য বন্দর হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা ধরনের মানুষের আগমন ঘটে, যা মাদক কারবারিদের সক্রিয় হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে সামাজিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
মানববন্ধন থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।
সমাপনী বক্তব্যে বক্তারা বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব। এতে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।
মন্তব্য করুন