মাগুরায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)-এর উদ্যোগে “রেজিলিয়েন্স, এন্টাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট” প্রকল্পের আওতায় এক দিনব্যাপী স্টেকহোল্ডার কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে মাগুরা সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা খাতুন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসডিএফ-এর কার্যক্রম প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে।
এসডিএফ-এর জেলা ব্যবস্থাপক জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফজাল হোসেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহুরুল আলম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল আওয়াল, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহজাহান সিরাজসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা। বক্তারা তাদের বক্তব্যে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগী চামেলী পারভীন, মৌসুমী খাতুন ও চন্দ্রা রায় তাঁদের সফলতার গল্প তুলে ধরেন। তারা জানান, এসডিএফ-এর সহায়তায় তারা স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং পরিবারে আর্থিক স্থিতিশীলতা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন, যা অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণাদায়ক।
উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এসডিএফ মাগুরা জেলায় বর্তমানে ২০০টি গ্রাম সমিতির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যেখানে অন্তর্ভুক্ত পরিবারের সংখ্যা ৩২ হাজার ৯৮৩ জন। অভ্যন্তরীণ ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ৭ হাজার ৭৩১ জন এবং এ খাতে বিতরণ করা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি ৪ লাখ টাকা। এছাড়া ঘূর্ণায়মান ঋণ কর্মসূচির আওতায় ১৯ হাজার ৫১৮ জন সদস্যকে মোট ৮৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। গ্রান্টস ম্যাচিং সেভিংস হিসেবে প্রদান করা হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে ৩৩ হাজার ৮১১ জনকে।
কর্মশালার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন জেলা কর্মকর্তা (যুব ও কর্মসংস্থান) শরফুদ্দিন সাগর এবং জেলা কর্মকর্তা (জীবিকায়ন) আব্দুল ওহাব। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কর্মশালা স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করবে এবং অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলবে।
মন্তব্য করুন