আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার প্রথাগত আমের বাইরেও নতুন চমক দেখাচ্ছে থাইল্যান্ডের বিখ্যাত ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’। সদর উপজেলার আতাহার দক্ষিণ শহর এলাকার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা পলাশ কর্মকার এই আম চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। লম্বাকৃতির এই আমটি দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি এটি বছরে দুইবার ফলন দিয়ে কৃষিতে নতুন এক বিপ্লবের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
পলাশ কর্মকারের ১০ বিঘা জমির বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে এই বিশেষ জাতের আম। দেখতে অনেকটা কলার মতো হওয়ায় এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’। গত ৫ বছর ধরে আম চাষের সঙ্গে যুক্ত পলাশের বাগানে রুপালি, কাটিমন ও গৌড়মতির মতো দামি জাত থাকলেও সবার নজর কাড়ছে এই বিদেশি জাতটি।

উদ্যোক্তা পলাশ জানান, থাইল্যান্ডের মতো আমাদের দেশের মাটিতেও এই আম বছরে দুইবার ফলন দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে তার বাগানে কিছু গাছে বড় আমের পাশাপাশি নতুন মুকুল আসতে শুরু করেছে।
পলাশ বলেন, এই আমটি বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য খুবই সম্ভাবনাময়। আমরা যদি বছরে দুইবার ফলন নিশ্চিত করতে পারি, তবে চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি লাভবান হবেন।
তবে পলাশের লক্ষ্য কেবল দেশীয় বাজার নয়, তিনি এই আম বিশ্ববাজারে রপ্তানি করতে চান। কিন্তু রপ্তানির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘ সময় আম সংরক্ষণের সুব্যবস্থা। পলাশের মতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি সরকারি হিমাগার স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। হিমাগার থাকলে আম নষ্ট হওয়ার ভয় থাকত না এবং সহজেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হতো।
চাষিদের মতে, আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে যদি ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’র রপ্তানি সহজ করা যায়, তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম অর্থনীতিতে যোগ হবে এক নতুন মাত্রা।
মন্তব্য করুন