
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিচার বিভাগীয় কর্মচারীরা ৯ম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছেন। এটি বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংগঠিত হয়। কর্মসূচিতে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি ও কর্পোরেশনসহ সকল কর্মচারীকে সমন্বিত করা হয়েছে।
আজ (২ ফেব্রুয়ারি, সোমবার) সকাল ১০টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবন-২ এর সামনে কর্মবিরতি শুরু হয়। বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশনের সকল সদস্য এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। কর্মবিরতিতে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ ওবাইদুল রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মতিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম মাহমুদ এবং সিজেএম আদালতের পেশকার মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
কর্মবিরতির সময় বক্তারা বলেন, “বিচার বিভাগীয় কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। অন্য সরকারি কর্মচারীর তুলনায় আমাদের বেতন কাঠামো ও সুযোগ-সুবিধায় বৈষম্য রয়েছে। এই বৈষম্য দূর করার জন্য দ্রুত ৯ম পে-স্কেলের গেজেট বাস্তবায়ন প্রয়োজন।”
এ সময় বক্তারা আরও বলেন, “সরকারি উদ্যোগ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। আমাদের দাবি পূরণ না হলে আদালত প্রাঙ্গণসহ অন্যান্য কর্মক্ষেত্রেও আন্দোলন জোরদার করা হবে।”
কর্মচারীরা তাদের দাবির পক্ষে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও স্লোগান সহ কর্মবিরতিতে অংশ নেন। তারা দ্রুত বৈষম্যমুক্ত ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ন্যায্য বেতন কাঠামো নিশ্চিত করার দাবি জানান।
জেলা শাখার সভাপতি মোঃ ওবাইদুল রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “বিচার বিভাগীয় কর্মচারীরা দেশের বিচার ব্যবস্থার সুষ্ঠু কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।”
এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মতিউর রহমান যোগ করেন, “কর্মচারীদের দীর্ঘ দিনের বৈষম্য দূর করতে এবং ন্যায্য বেতন কাঠামো প্রণয়নের জন্য আমাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমরা শুধুমাত্র গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সমাধান চাই, যা আমাদের প্রাপ্য অধিকার।”
কর্মবিরতি শেষে অংশগ্রহণকারীরা জানান, বৈষম্যমুক্ত ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর কর্মসূচি ও আন্দোলন নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন