
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বড়নাল গ্রামে সংঘটিত এক চুরির ঘটনায় পুলিশি অভিযানে চুরি হওয়া গরুর একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (___ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে নড়াগাতী থানা পুলিশ ও বড়নাল পুলিশ ফাঁড়ির যৌথ অভিযানে তিনটি গরু উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগী গরুর মালিক পারখালি গ্রামের বাসিন্দা হাজি সারোয়ার ফকির অভিযোগ করে জানান, সোমবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তাঁর গোয়ালঘর থেকে পাঁচটি গরু চুরি করে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, “সেদিন রাতে পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি কৃষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সুযোগ নিয়েই চোরেরা আমাদের বাড়িতে হানা দেয়। আমি তখন অসুস্থ ছিলাম এবং আমার ছেলেরা বাড়িতে ছিল না। ফলে গরু চুরির বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারিনি।”
হাজি সারোয়ার ফকিরের পুত্রবধূ সালেহা বেগম জানান, ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা আশপাশের এলাকায় গরুগুলোর সন্ধান শুরু করেন। একপর্যায়ে বড়নাল গ্রামে এসে তারা গরুগুলো দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশ গরুগুলো উদ্ধার করে।
এদিকে, উদ্ধার হওয়া গরু সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযুক্ত গরু ব্যবসায়ী কালু সরদারের স্ত্রী বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমার স্বামী গরুর ব্যবসা করেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি গরুগুলো গোয়ালে দেখতে পাই।”
অপরদিকে, মেজবাহ মোল্যার স্ত্রী হালিমা বেগম জানান, সোমবার রাতে স্থানীয় মিলু মল্লিকের ছেলে রাব্বি মল্লিক গভীর রাতে তাঁর স্বামীর কাছে এসে গরু বিক্রির প্রস্তাব দেয়। প্রথমে তাঁর স্বামী গরু কিনতে অস্বীকৃতি জানালেও রাব্বি মল্লিক আশ্বস্ত করে বলেন, ‘কোনো সমস্যা হলে আমার নাম বলবেন।’ তার আশ্বাসে দরদাম করে গরু কেনা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
বড়নাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মল্লিক মানিরুল ইসলাম বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। অপরাধী যেই হোক না কেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গরু বিক্রেতা রাব্বি মল্লিক কলাবাড়ীয়া ইউনিয়নের বেলে ডাঙ্গা গ্রামের সদ্য নিহত ইউসুফ মোল্লার ভগ্নিপতি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।
নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহিম জানান, খবর পাওয়ার পর কালিয়া সার্কেল অফিসার রবিন হালদারের নির্দেশে নড়াগাতী থানা পুলিশ ও বড়নাল পুলিশ ফাঁড়ির একটি যৌথ দল অভিযান চালিয়ে গরুগুলো উদ্ধার করে। তিনি আরও বলেন, “ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ না দিলেও পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন