
ভৈরব উপজেলাতে দরিদ্র পরিবারের জন্য ‘ফ্যামেলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলম। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তুলাকান্দি গ্রামে ১ হাজার ১০ জন দরিদ্র পরিবারের মাঝে এ কার্ড বিতরণ করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী প্রতীকীভাবে কয়েকজন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামেলি কার্ড তুলে দেন। এদের মধ্যে ছিলেন লিজা বেগম, সোনিয়া বেগম, রেহেনা বেগম, হেলেনা বেগম ও দিয়াসমিন বেগম।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, ভৈরবের একটি ওয়ার্ডে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ১০ জন দরিদ্র পরিবারকে ফ্যামেলি কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও পরিবারকে এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে যারা বয়স্ক, বিধবা বা অন্যান্য সরকারি ভাতা পাচ্ছেন এবং যাদের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল, তাদের এই কার্ডের আওতায় আনা হবে না।
তিনি আরও জানান, ভৈরব-কুলিয়ারচর নির্বাচনী এলাকায় কৃষক কার্ড, খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। শিগগিরই প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ফ্যামেলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং কৃষি ঋণের সুদসহ ১০ হাজার টাকা মওকুফ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের ১৪টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামেলি কার্ড চালু করা হয়েছে এবং তার মধ্যে ভৈরবও রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কে এম মামুনুর রশীদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক; ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, পুলিশ সুপার; সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামানসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ভিপি মজিবুর রহমান এবং শিমুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আল-আমিনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ফ্যামেলি কার্ড পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। লিজা বেগম বলেন, পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলাম। কার্ডটি পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পেলাম। অন্য এক উপকারভোগী হাসিনা বেগম বলেন, মোবাইলে ২ হাজার ৫০০ টাকা পেয়েছি, এতে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ কিছুটা মেটাতে পারব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম ভৈরব উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করেন। পরে তিনি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় যোগ দেন এবং বিকেলে ভৈরব প্রেসক্লাব আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।
মন্তব্য করুন