
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী ও তার দ্বিতীয় 1স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। রোববার পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. মিলন (৪০) এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাহেদা আক্তার লাইজু (৩০)। সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে মো. মিলনের সঙ্গে নিহত গৃহবধূর বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ ও কলহ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় মিলন তার স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিরোধের সৃষ্টি হয়।
গত ১২ মার্চ ভোরে হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের আল-আমিন গ্রামে তাদের বাড়িতে পারিবারিক বিরোধের জেরে আবারও ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মিলন তার স্ত্রীকে মারধর করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মারধরের এক পর্যায়ে তিনি লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে গৃহবধূ গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নিকটবর্তী বাজারের একটি ফার্মেসিতে নিয়ে গেলে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত মিলন ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাহেদা আক্তার লাইজু এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
এ ঘটনায় নিহত নারীর ছোট ভাই বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্তে অভিযান চালায়।
পরবর্তীতে র্যাব-১১ (সিপিসি-৩) নোয়াখালী এবং র্যাব-৭ চট্টগ্রামের একটি যৌথ দল রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোড এলাকার ছোটপুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. মিলনকে গ্রেপ্তার করে। পরে একইদিনে চট্টগ্রামের হালিশহর বড়পোল মোড় এলাকা থেকে সাহেদা আক্তার লাইজুকে আটক করা হয়।
র্যাব-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে।
মন্তব্য করুন