
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পাঁচ নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে তারা পুনরায় দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরে পেয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার কার্যকর করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদ পুনর্বহাল করা হয়েছে।
যাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে তারা হলেন— যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তাহের সিদ্দিকী, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সৈয়দ মো. সোহেল চেয়ারম্যান (এস এম আতাউল মোস্তফা সোহেল), চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতা খোরশেদ আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ এবং দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মোছা. পারুল নাহার।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অতীতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের নীতি-আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তারা নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে দলের কাছে আবেদন জানান। বিষয়টি পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
পুনর্বহাল হওয়া নেতাদের মধ্যে সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ নাসিরনগর উপজেলায় পরিচিত একটি রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তিনি বিএনপির সাবেক সিনিয়র নেতা ও প্রয়াত জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ মোর্শেদ কামালের কনিষ্ঠ পুত্র। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাপড়তলা ইউনিয়নের খান্দুরা গ্রামে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সাংগঠনিক ঐক্য ও তৃণমূলের শক্তি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বিএনপি নেতৃত্ব এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা আবারও সক্রিয়ভাবে দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন