
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এক সাবেক ছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পালানোর অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্তেজক ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা মাদরাসায় অগ্নিসংযোগ করেন, যার ফলে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে চরজব্বর ইউনিয়নের উত্তর চর হাসান গ্রামের সৈয়দ মুন্সি বাড়ি মাদরাসায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। মাদরাসায় কোনো শিক্ষার্থী না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসান (৩৫), যিনি ফিরোজপুর জেলার বাসিন্দা, দীর্ঘদিন ধরে সৈয়দ মুন্সি বাড়ি মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। অভিযোগ, তিনি মাদরাসার সাবেক এক ছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যান। ভুক্তভোগী ছাত্রী বর্তমানে সদর উপজেলার নুরু পাটোয়ারীহাট মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবারের বরাতে জানা যায়, মাদরাসায় পড়াশোনার সময় ছাত্রী ও প্রধান শিক্ষকের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৭ জানুয়ারি প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসান ছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার মাদরাসায় তালা ঝুলিয়ে দেয়। মাদরাসাটি এক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার গভীর রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ জানায়, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি আরও বলেন, “ছাত্রীকে নিয়ে পালানোর ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক এখনও পলাতক রয়েছেন। আমরা তাকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনব।”
চরজব্বর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবু কাউছার বলেন, “ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। প্রশাসন যেন দ্রুত প্রকৃত দোষীকে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
স্থানীয়রা জানায়, এই ঘটনার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্রুত ব্যবস্থা নিলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখা সম্ভব হবে।
ভুক্তভোগী ছাত্রী বর্তমানে তার পরিবারের হেফাজতে রয়েছে এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনও সর্তক অবস্থানে রয়েছে।
মন্তব্য করুন