
রাজশাহীতে আলু চাষ করে চরম সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। মৌসুমজুড়ে আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। লোকসান এড়ানোর আশায় অনেক কৃষক আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করলেও সেখান থেকেও মিলছে না স্বস্তি। আলু বিক্রি করেও হিমাগারের ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ উঠছে না বলে অভিযোগ কৃষকদের।
রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদন হয় তানোর উপজেলায়। কিন্তু চলতি মৌসুমে আলুর দাম এতটাই কম ছিল যে অনেক কৃষক উৎপাদন খরচই তুলতে পারেননি। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। পরবর্তীতে সরকার হিমাগার পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর দাম ২২ টাকা নির্ধারণ করলেও তা কার্যকর হয়নি বলে জানান কৃষকরা। এর ফলে হিমাগারে রাখা আলু বিক্রি করেও লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁদের।
কৃষকরা জানান, আলুর বাজারদর কম থাকার পাশাপাশি হিমাগার ভাড়া, বস্তা, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রেই আলু বিক্রির টাকা দিয়ে হিমাগারের ভাড়া মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সংসারের জমানো টাকা কিংবা ধারদেনা করে ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে লোকসানের কারণে চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় আলু চাষ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। গত বছর যেখানে ৩৮ হাজার ৫৭১ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল, সেখানে এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ২৮০ হেক্টরে। অর্থাৎ এক মৌসুমেই প্রায় ৪ হাজার ২৯১ হেক্টর জমিতে আলু চাষ কমে গেছে।
জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ও উন্নত জাতের আলু উৎপাদন হয় তানোর উপজেলায়। সেখানকার কৃষকরাও এবার আলু চাষ কমিয়েছেন। গত মৌসুমে তানোর উপজেলায় ১৩ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হলেও চলতি মৌসুমে তা কমে ১২ হাজার ২৬৫ হেক্টরে নেমে এসেছে।
তানোর উপজেলার চোরখৈর গ্রামের আলুচাষি মো. মইদুল ইসলাম জানান, তিনি হিমাগারে ১২১ বস্তা আলু সংরক্ষণ করেছিলেন। পরে সেই আলু বিক্রি করেও হিমাগারের ভাড়া ও অন্যান্য খরচ মেটাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ঘর থেকে ১৬ হাজার ৬০০ টাকা যোগান দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, “সারা বছর পরিশ্রম করে আলু ফলালাম, অথচ শেষে নিজের পকেট থেকে টাকা দিতে হলো। এতে করে আমরা চরম হতাশ হয়ে পড়েছি।”
একই উপজেলার আরও কয়েকজন কৃষক জানান, আলুর ন্যায্যমূল্য না পেলে আগামী মৌসুমে আলু চাষে আগ্রহ আরও কমে যাবে। এতে কৃষি অর্থনীতি ও বাজার ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষকদের দাবি, সরকার ঘোষিত আলুর মূল্য দ্রুত কার্যকর করা, হিমাগার ভাড়া কমানো এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে আলু কেনার ব্যবস্থা করলে এই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। না হলে আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবেন কৃষকরা।
মন্তব্য করুন