
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে সরিষা চাষকে কেন্দ্র করে কৃষক মাঠ দিবস ও কারিগরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উদ্যোগ তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত হয়।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) লোগাং ইউনিয়নের খেদারাছড়া বীরেন্দ্র পাড়া পার্টনার ফিল্ড স্কুল সমবায় সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমবায় সমিতির সভাপতি কালা চাঁদ চাকমা।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খাগড়াছড়ি উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দীন চৌধুরী। তিনি বলেন, “সরিষা চাষে কম সময় ও কম খরচে বেশি লাভ পাওয়া সম্ভব। আমন ধান কাটার পর সরিষা এবং পরবর্তীতে বোরো ধান আবাদ করলে এক ফসলি জমিকে দুই বা তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা সম্ভব।”
উপপরিচালক আরও জানান, সরিষা মাত্র ৭৫–৮০ দিনের মধ্যে কর্তনযোগ্য এবং প্রতি বিঘা জমিতে ৫ মণের বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব। তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে দেশের ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং স্থানীয় কৃষকরা স্বাবলম্বী হতে পারবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি প্রকৌশলী মো. আব্দুল মোহিত এবং পানছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম। এছাড়া শ্যামল চাকমাসহ এলাকার বিভিন্ন গ্রামের কৃষক ও কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন।
মাঠ দিবসে সরিষা চাষের আধুনিক প্রযুক্তি, সার ও বীজ ব্যবস্থাপনা, পাশাপাশি লাভজনক ফসল বিন্যাস নিয়ে বিস্তারিত কারিগরি আলোচনা করা হয়। কৃষকরা সরিষা চাষের বিভিন্ন দিক এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, সরিষা চাষে কম সময়ে বেশি লাভ হওয়ার সুযোগ থাকায় তারা উৎসাহিত। সরিষা চাষের মাধ্যমে না শুধু উৎপাদন বাড়বে, বরং তেলজাতীয় পণ্যের বাজারজাত ও অর্থনৈতিক আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
পানছড়ি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের মাঠ দিবস ও কারিগরি সমন্বয়ের মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক ও লাভজনক ফসল চাষে আরও আগ্রহী হবেন এবং তেলের আঞ্চলিক উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
মন্তব্য করুন