
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই সিঙ্গাপুর থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে একটি জ্বালানিবাহী জাহাজ। সোমবার (৯ মার্চ) ২৭ হাজার ২০৪ টন ডিজেল নিয়ে ‘এমটি শিউ চি’ নামের ট্যাংকারটি বন্দর জেটিতে ভিড়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এই ডিজেল আমদানি করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও চারটি ডিজেলবাহী ট্যাংকার আসার কথা রয়েছে। এসব ট্যাংকারে মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার ২০৫ টন ডিজেল রয়েছে।
জানা গেছে, সিঙ্গাপুর থেকে আজ রাতেই পৌঁছানোর কথা রয়েছে ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের আরেকটি ডিজেলবাহী ট্যাংকার। এটিতে প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল রয়েছে। বৃহস্পতিবার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ‘এসপিটি থেমিস’। এটিতে ৩০ হাজার ৪৮৪ টন ডিজেল রয়েছে।
আগামী শনিবার ‘র্যাফেলস সামুরাই’ নামের ট্যাংকারটি পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একই সময়ে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ‘চ্যাং হ্যাং হং টু’ নামের ট্যাংকার। এই দুটিতে প্রায় ৩০ হাজার টন করে ডিজেল রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নয়টি দেশ থেকে ২৩ লাখ ২৮ হাজার টন ডিজেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে ৭৮ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে কোনো ডিজেল আমদানি করা হয়নি।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও বাংকারিং বিষয়ক সমন্বয় সভায় জানানো হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও গতিশীল করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সব চাহিদা সমন্বিতভাবে নিরূপণ এবং জ্বালানিবাহী জাহাজকে চট্টগ্রাম বন্দরে বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা দেওয়া হবে।
বন্দরের সার্বিক অপারেশনাল কার্যক্রমসহ সব লজিস্টিক সাপোর্ট আগের মতো নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তাসহ বহির্নোঙরে অবস্থানরত সব জাহাজের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে সহযোগিতার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজসমূহের অধিকাংশ বাংকারিং ও সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সরবরাহের প্রধান উৎসগুলো সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াকেন্দ্রিক হওয়ায় বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব এখানে নগণ্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন