
ঢাকার সাভারে পরিত্যক্ত একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে আগুনে ঝলসানো অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সম্রাট নামের এক ভবঘুরে যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অন্তত ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আরাফাত ইসলাম এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমাদের জিজ্ঞাসাবাদে তাকে (সম্রাট) কোনোভাবেই পাগল বলে মনে হয়নি। তাকে আমরা একজন ভবঘুরে হিসেবেই জানি। তার আচরণে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি।”
নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “সব মরদেহের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তারা ভবঘুরে ছিলেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি আসমা বেগম (৬৫), যাঁর মরদেহ প্রায় সাত মাস আগে সাভার মডেল মসজিদের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধারাবাহিকভাবে সাভার এলাকায় একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রায় সাত মাস আগে সাভার মডেল মসজিদের সামনে এক বৃদ্ধ নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর গত বছরের ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে একটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই স্থান থেকে গত ১৯ ডিসেম্বর আরও একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সবশেষে রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে আগুনে পোড়া অবস্থায় আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
একই এলাকার আশপাশে ধারাবাহিকভাবে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে সম্রাটকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বক্তব্য ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর ঘটনার মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী বলেন, “ঘটনাগুলো অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও নৃশংস। মরদেহ উদ্ধারের পরপরই আমরা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ শুরু করি। সেসব ফুটেজ এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতেই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে দ্রুত আটক করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত চলছে। এই নৃশংসতার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
মন্তব্য করুন