
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় নিষিদ্ধ গাঁজার গাছ চাষ ও সংরক্ষণের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একজনকে এক বছর চার মাসের কারাদণ্ড এবং অপরজনকে দুই দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসির কালিয়া উপজেলার পরিদর্শক আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে সহকারী উপ-পরিদর্শক আলতাফ হোসেন ও অশোক বাইনসহ একটি চৌকস দল কালিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে মৃত সন্তোষ বর্মনের ছেলে বাসু দেব বর্মনের বাড়ির আঙিনা থেকে গাঁজার গাছ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকেই বাসু দেব বর্মনকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে কালিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রাবণী বিশ্বাসের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৯ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ৩৬(১)১৮ ধারায় বাসু দেব বর্মনকে এক বছর চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
এ সময় অভিযান চলাকালে মুহিদুল ইসলাম (পিতা: মৃত ফজর শেখ), যিনি নিজেকে স্থানীয় সংবাদ সংগ্রাহক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন, গাঁজার জট ব্যাগে রেখে আত্মসাৎ করার চেষ্টা করলে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দুই দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা করেন।
অভিযান ও আদালত পরিচালনার সময় স্থানীয় সাংবাদিক ও উৎসুক জনতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, আটক বাসু দেব বর্মন দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং নিজ বাড়ির আঙিনায় গোপনে গাঁজার চাষ করতেন। তিনি বলেন, “এই ধরনের অপরাধীরা সমাজের জন্য ভয়ংকর। তাদের কারণে যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।”
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
মন্তব্য করুন