
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলতে মানবিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি)। এই উদ্যোগের আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ এবং একটি মহিলা হেফজ মাদরাসায় সোলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) লোগাং জোনের তত্ত্বাবধানে ৩ বিজিবির ব্যবস্থাপনায় বড় পানছড়ি (দক্ষিণ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন স্কুল ব্যাগ তুলে দেওয়া হলে তারা আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।
একই দিনে পানছড়ি উপজেলার ফাতেমাতুজ জোহরা (রাঃ) মহিলা হেফজ মাদরাসায় সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়। বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় অবস্থিত এই মাদরাসায় সোলার বিদ্যুৎ স্থাপনের ফলে শিক্ষার্থীরা এখন নিরবচ্ছিন্নভাবে পড়াশোনা ও ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ রবিউল ইসলাম, পিপিএম (সেবা) বলেন,
“শিক্ষাই একটি জাতির মেরুদণ্ড। নিয়মিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। বিজিবি শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, সমাজ ও শিক্ষার উন্নয়নেও কাজ করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা যেন পিছিয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই বিজিবি নিয়মিতভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
অনুষ্ঠান শেষে জোন অধিনায়ক আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এলাকার কয়েকটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। বিজিবি নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিজিবির এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, শিক্ষা সামগ্রী ও সোলার বিদ্যুৎ প্রদান শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ বাড়াবে এবং দুর্গম এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও বিজিবি এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
উল্লেখ্য, সীমান্তবর্তী ও পাহাড়ি জনপদে শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে ৩ বিজিবির এ উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বাহিনীর পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন