
রাজশাহীতে শীতের আমেজ আর ঝলমলে রোদের উষ্ণতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘রোদ পোহানো উৎসব’। শীতকালীন পিঠার স্বাদ আর খোলা আকাশের নিচে রোদ পোহানোর আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে রাজশাহীর নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণ। কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের উদ্যোগে দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
মাঘের কনকনে শীতের মাঝেও উজ্জ্বল রোদে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয় নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী শীতের পিঠার স্টল। ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা, দুধচিতইসহ বিভিন্ন রকম পিঠার ঘ্রাণে উৎসব প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। স্টলগুলোতে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই পিঠা তৈরি ও পরিবেশন করেন, যা উৎসবে বাড়তি আকর্ষণ যোগ করে।
অন্যদিকে, কলেজ মাঠে সারি সারি চেয়ার বসিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথিদের রোদ পোহানোর ব্যবস্থা করা হয়। খোলা মাঠে বসে শীতের রোদ উপভোগ করতে দেখা যায় সবাইকে। আড্ডা, হাসি আর গল্পে উৎসবের আবহ আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
উৎসব আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ সাইদুর রহমান বলেন, “আমাদের দেশে বৈশাখ, বর্ষা কিংবা শরৎকে ঘিরে নানা উৎসব থাকলেও শীত মৌসুমে পিঠা উৎসব ছাড়া তেমন কোনো আয়োজন দেখা যায় না। শীতের রোদ, প্রকৃতি আর আনন্দ—এই তিনটিকে একসঙ্গে উপভোগ করতেই শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘রোদ পোহানো উৎসব’ আয়োজন করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বস্তি দেয় এবং শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে সমৃদ্ধ করে।
উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন তাদের জন্য আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা। একজন শিক্ষার্থী বলেন, “খোলা মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে রোদ পোহানো আর নিজের হাতে বানানো পিঠা পরিবেশন করতে পারাটা সত্যিই দারুণ অনুভূতি।” শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো দিনজুড়ে উৎসবটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
শীতের শেষ সময়ে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন রাজশাহীর শিক্ষাঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উৎসব আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
মন্তব্য করুন