
বঙ্গোপসাগরে মাছের অভাব ও সুন্দরবনের বনদস্যুদের তাণ্ডবের কারণে দুবলারচরের শুঁটকিকরণ জেলেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। মাছের সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার ফলে শুঁটকি মৌসুমের মধ্যে জেলেরা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ছেন।
দুবলার আলোরকোল চর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে সাগরে মাছের সঠিক সরবরাহ নেই। জেলেরা যখন মাছ ধরতে যান, তখন ধরা মাছ দিয়ে ট্রলারের জ্বালানী খরচও ওঠে না। ফলে অনেক জেলে মাছ না পাওয়ার কারণে বাড়তি ঋণের মধ্যে পড়ে যাচ্ছেন। শুঁটকি তৈরির জন্য যে মাচা সাজানো হয়, তা এখন শূন্য ও খাঁ খাঁ শুনশান হয়ে পড়েছে।
দুবলার আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোঃ মোতাসিম ফরাজী জানান, “সাগরে মাছ কম পাওয়া ও বনদস্যুদের দৌরাত্ম বৃদ্ধির কারণে জেলেরা নিরাপদে কাজ করতে পারছে না। বনদস্যুরা জেলেদের ধরে নিয়ে মুক্তিপণ দাবী করছে। এতে জেলেরা ও মহাজনরা ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছেন। মাছ না পেয়ে শুঁটকি ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়ছে।”
তিনি আরও বলেন, “দস্যুদের হাত থেকে বাঁচতে জেলেরা অনেক সময় মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হচ্ছে। এতে তাদের আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। শুঁটকি মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই সমস্যা অব্যাহত থাকলে অনেক জেলে ও তাদের পরিবার ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।”
দুবলারচর থেকে মোবাইল ফোনে কথা বলে দুবলা ফিসারমেন গ্রæপের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “শুরুতে শুঁটকি মৌসুম ভালো ছিল। কিন্তু হঠাৎ মাছ কম পাওয়ার কারণে জেলেরা লোকসানে পড়েছে। বনদস্যুরা ট্রলার ও নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে গেলে তাদের ধাওয়া করে। ফলে জেলেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দস্যু দমনে র্যাব ও কোস্টগার্ডের অভিযান জোরদার করতে হবে।”
এদিকে, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জেলেপল্লী দুবলা ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, “বর্তমানে জেলেরা সাগরে তেমন মাছ পাচ্ছেন না। মাছ না পাওয়ার কারণে বনবিভাগের রাজস্ব আয়ও কমতে পারে। এই পরিস্থিতি বনবিভাগের রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।”
স্থানীয় জেলেরা জানাচ্ছেন, এই সংকট দূর না হলে শুঁটকি মৌসুমের লাভের বদলে ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তারা দাবি করেছেন, সাগরে মাছের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে ও বনদস্যুদের দমনে প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
মন্তব্য করুন