
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা বলেছেন, তিনি যে পরিচয়েই থাকুন না কেন—স্বতন্ত্র বা অন্য কোনো পরিচয়ে—নিজ নির্বাচনী এলাকার দীর্ঘদিনের অবহেলিত দুর্দশা আর মেনে নেবেন না। দৃশ্যমান পরিবর্তন আনাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম পরমানন্দপুরে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন রুমিন ফারহানা। ‘হাঁস’ প্রতীক পাওয়ার পর এদিনই তিনি এই এলাকায় প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন।
জনসভায় রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের সব বিভাগে গেছি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উন্নয়নের ছোঁয়া দেখেছি। তাহলে আমার সরাইল-আশুগঞ্জের এই অবস্থা কেন? কেন এত অবহেলা? কেন এই দুর্দশা?’ তিনি বলেন, ‘আমি স্বতন্ত্র হই আর যা-ই হই, এই এলাকার মানুষের কষ্ট আর মেনে নেব না। আপনারা খুব শিগগিরই দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পাবেন।’
তিনি আরও বলেন, আল্লাহ যদি জনগণের উসিলায় তাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেন, তাহলে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, একজন স্বতন্ত্র এমপি হিসেবে তিনি সরকারকে এই এলাকার উন্নয়নে বাধ্য করবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দ আদায়ের পাশাপাশি নিজ উদ্যোগেও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আজকে এই পাঁচ গাঁও—পরমানন্দপুর, বরইচারা, ফতেহপুর, হরিপুর ও ষাটবাড়িয়া—থেকে আমার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হচ্ছে। আমি জানতে চেয়েছিলাম, সরাইল-আশুগঞ্জের সবচেয়ে অবহেলিত এলাকা কোনটি। সবাই বলেছে—এই পাঁচ গাঁও।’ নিজের যাতায়াতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেড় থেকে দুই ঘণ্টা গাড়িতে, ২০ মিনিট নৌকায় এবং প্রায় এক ঘণ্টা অটোরিকশায় বালুর রাস্তা দিয়ে যাত্রা করে সেখানে পৌঁছাতে হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সমাবেশে এসে আমি বলছি—মা-বোনেরা যেমন ভর্তা বানায়, আমি সেরকম ভর্তা হয়ে গেছি। তাহলে আমার মা-বোন-ভাইয়েরা প্রতিদিন কীভাবে চলাচল করেন?’ এ বক্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
এলাকার উন্নয়নের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার প্রথম নির্বাচনী জনসভা থেকেই ওয়াদা করছি—ভূইশ্বর থেকে পরমানন্দপুর সড়কে একটি ব্রিজ নির্মাণ আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার। শুধু ব্রিজ নয়, পাকা রাস্তাও করতে হবে।’ তিনি বলেন, এই এলাকা দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকলে এখানকার মানুষ কখনোই আধুনিক জীবনযাত্রার সুবিধা পাবে না।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হাঁস হলো সমৃদ্ধির প্রতীক, ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতীক, নতুন শান্তির প্রতীক। তাই এবারের ভোট হাঁস মার্কায় দিন। একবার সুযোগ দিন—এই এলাকার চিত্র বদলে দেব।’
নির্বাচনী জনসভায় সভাপতিত্ব করেন পাকশিমুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড শাখা বিএনপির সভাপতি সিরাজ খান। এতে উপস্থিত ছিলেন সরাইল উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আইয়ুব হোসেন সরদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি হোসেন মিয়া, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক উসমান খাঁন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল বারেকসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
মন্তব্য করুন