
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী, সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে শ্যামনগর উপজেলায় পৃথক দুটি স্থানে নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) বিকেল ৩টায় প্রথম জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয় গাবুরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীখালী দাখিল মাদ্রাসা মাঠে। গাবুরা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা দিদারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজী নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, জেলা জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল মজিদ, চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ, মাওলানা মাহবুবুর রহমানসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় শ্যামনগরের মানুষের সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে নিরাপত্তা ও টেকসই অবকাঠামোর অভাব। তিনি বলেন, স্থায়ী ও টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার ছাড়া উপকূলবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেন।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন ও উপকূলীয় জনপদ নিরাপদ না হলে কোনো উন্নয়নই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষা প্রসারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চালুর প্রতিশ্রুতি দেন।
গাজী নজরুল ইসলাম গ্রামীণ ও অবহেলিত এলাকার রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের অঙ্গীকার করে বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া কৃষি, ব্যবসা ও শিল্প খাতের অগ্রগতি সম্ভব নয়।
তিনি সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। একই সঙ্গে চিংড়ি, কাঁকড়া ও উপকূলীয় অন্যান্য শিল্পের আধুনিকায়ন এবং রপ্তানিমুখী উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন।
মাগরিবের নামাজের পর দ্বিতীয় জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয় বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা হারুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় বক্তারা বলেন, শ্যামনগরের উন্নয়নের জন্য আবেগ নয়, প্রয়োজন পরিকল্পিত ও বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি। তারা আরও বলেন, গাজী নজরুল ইসলামের পূর্ব অভিজ্ঞতা ও উপকূলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এ অঞ্চলের মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
দুটি জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব জনসভার মাধ্যমে শ্যামনগরে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণা উপকূলীয় সমস্যা ও সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে আরও জোরালোভাবে সামনে এসেছে।
মন্তব্য করুন