
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় জামায়াতে ইসলামী নারীকর্মী হেনস্থার অভিযোগকে **সাজানো ও পূর্বপরিকল্পিত অপপ্রচার** বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও যশোর-২ (চৌগাছা–ঝিকরগাছা) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী **সাবিরা নাজমুল মুন্নী** এই দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম সুমন, উপজেলা যুবদলের সভাপতি, প্রয়াত বিএনপি নেতা নাজমুল ইসলামের ছোট ভাই আরাফাত কল্লোলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে সাবিরা নাজমুল মুন্নী বলেন, গত ২৫ জানুয়ারি যশোর-২ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ যশোর প্রেসক্লাবে যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, সেখানে উত্থাপিত অভিযোগ **সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত**। তিনি বলেন, ভোটে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই একটি কুচক্রী মহল এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর অভিযোগ ছিল—ঝিকরগাছা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কীর্তিপুর গ্রামে নির্বাচনী প্রচারণাকালে জামায়াতের নারীকর্মীদের ওপর ধানের শীষের সমর্থকরা হামলা, শ্লীলতাহানি, মোবাইল ফোন ভাঙচুর ও ছিনতাই করেছে। তবে বিএনপি দাবি করেছে, ঘটনার প্রকৃত চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বিএনপি নেতাদের ভাষ্যমতে, ওই দিন জামায়াতের কয়েকজন নারী কর্মী কীর্তিপুর গ্রামে আরাফাত কল্লোলের বাড়িতে গিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চান। এ সময় বাড়িতে উপস্থিত সুমাইয়া ও সাবিরা মুন্নী জানান, ওই বাড়িতে নিজ দলের প্রার্থী রয়েছে—তাই সেখানে ভোট চাইতে আসা অপ্রাসঙ্গিক। তখন জামায়াতের কর্মীরা ভোট না দিলে ‘মোনাফেক’ ও ‘জান্নাত বঞ্চিত’ হওয়ার মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
পরে বিষয়টি জানতে পেরে আরাফাত কল্লোল জামায়াতের কর্মীদের কাছে ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে চান। এ নিয়ে কিছু কথা কাটাকাটি হলেও **কোনো ধরনের শারীরিক হামলা, শ্লীলতাহানি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি** বলে বিএনপি দাবি করে। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় কল্লোল বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না এবং পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই শেষ হয়।
বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, জামায়াত প্রার্থী রাজনৈতিকভাবে ফায়দা লুটতে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াতে মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন। ধানের শীষের প্রার্থী সাবিরা সুলতানা মুন্নীর **বর্ধমান জনপ্রিয়তায় ভীত হয়েই** এই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানানো হয় এবং মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা ঘোষণা করা হয়।
মন্তব্য করুন