
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় পৈত্রিক জমি ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ওপর হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে। ইতোমধ্যে তারা বিষয়টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে কালিহাতী থানায় লিপিবদ্ধ করার আবেদন করেছে।
জানা গেছে, কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের রায়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ জামাল হোসেন (৫০) দীর্ঘদিন ধরে তার চাচাতো ভাতিজা মোঃ শহিদ (৫১), আরিফ (৪০), আসিফ (২২) ও শাহিন (৪৫)-এর সঙ্গে পৈত্রিক জমিজমা ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে রয়েছেন। এই বিরোধের জের ধরেই সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সহিংস ঘটনার শিকার হয়েছে জামাল হোসেনের পরিবার।
ভুক্তভোগীর দায়ের করা জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জানুয়ারি বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে অভিযুক্তরা জামাল হোসেনের বাড়িতে এসে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা জামাল হোসেনের ভাবী সুফিয়া বেগম (৪৫) ও খাহিমা বেগম (৪২)-কে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফোলা জখম হয় এবং তারা গুরুতর আহত হন।
এ সময় অভিযুক্তরা বাড়ির টিনের বেড়া ভাঙচুর করে আনুমানিক ৩৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে বলে অভিযোগ করা হয়। স্থানীয়দের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, একই দিন রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে অভিযুক্তরা বল্লা রায়পাড়া এলাকার একটি মসজিদের সামনে জামাল হোসেনের ভাই হারুন (৫৫)-কে বাঁশের লাঠি ও লাথি দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।
জামাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে যে, সুযোগ পেলেই তারা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধরসহ প্রাণনাশ করবে। এসব হুমকির কারণে পরিবারটি চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ঘটনার বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরির আবেদন পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, পারিবারিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি না হলে এমন সহিংস ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তারা এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন