
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ও শৈলখালী ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে পৃথক পৃথক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই দুটি এলাকায় পথসভাগুলো আয়োজন করা হয়। সভাগুলোতে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ও ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী জনাব গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে ইসলামী আদর্শভিত্তিক সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “ইসলামী সমাজব্যবস্থাই পারে ন্যায়বিচার, সুশাসন ও মানবিক মূল্যবোধ নিশ্চিত করতে। জামায়াতে ইসলামী শুরু থেকেই সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।”
গাজী নজরুল ইসলাম আরও বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় মানুষের ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও ন্যায্য অধিকার বারবার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ অবস্থায় জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্যায়, দুর্নীতি ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। তিনি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক উপজেলা আমির মাওলানা আঃ মজিদ এবং সাবেক উপজেলা আমির আঃ জলিল। তাঁরা তাঁদের বক্তব্যে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার আজ হুমকির মুখে। জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় জামায়াতে ইসলামীর মতো আদর্শিক ও সংগঠিত শক্তির বিকল্প নেই।
বক্তারা বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতার রাজনীতি নয়, বরং মানুষের অধিকার ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করে। তাঁরা দাবি করেন, ইসলামী আদর্শের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও বৈষম্য দূর হবে এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে উঠবে।
পথসভাগুলোতে স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সভা শেষে নেতাকর্মীরা এলাকায় গণসংযোগ করেন এবং সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় তাঁরা জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচি, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করেন।
স্থানীয়রা জানান, পথসভাগুলোর মাধ্যমে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের কাছে জামায়াতে ইসলামীর বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন