
গাজীপুরের শ্রীপুরে নোমান হোম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড কারখানার ভেতরে শ্রীপুর পৌরসভার ময়লার গাড়ির চাপায় জসিম আহম্মেদ (৪৪) নামের এক নিরাপত্তা প্রহরী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক সোয়া ৮টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার আনসার রোডের কলিম উদ্দিন চেয়ারম্যান মোড় সংলগ্ন কারখানা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জসিম আহম্মেদ ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার মশাখালী ইউনিয়নের চাইরবাড়িয়া গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পূর্বখণ্ড এলাকায় আব্দুল মান্নানের বাড়িতে ভাড়া থেকে নোমান শিল্প গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান নোমান হোম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড কারখানায় নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর পৌরসভার একটি ময়লার গাড়ি নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কারখানা থেকে ময়লা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করছিল। এ সময় কারখানার ১ নম্বর গেটের উত্তর পাশে রাস্তার ওপর দায়িত্ব পালন করছিলেন নিরাপত্তা প্রহরী জসিম আহম্মেদ। গাড়িটি প্রবেশের সময় অসাবধানতাবশত তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গাড়ির নিচে পড়ে গেলে গাড়ির চাকার নিচে তার মাথা পিষ্ট হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পৌরসভার ময়লার গাড়িটি জব্দ করে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই গাড়িচালক পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “পৌরসভার ময়লার গাড়িটি কারখানায় প্রবেশের সময় দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরীকে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়ির চাকায় তার মাথা পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালক পলাতক রয়েছে।”
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমদ জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
এ ঘটনায় নোমান শিল্প গ্রুপের নোমান হোম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ইকবাল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের সহকর্মী ও স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহতের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন