
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা মহিলা দলের এক নেত্রী। নির্বাচনী সেন্টারের খরচ না পাওয়ায় হতাশ হয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ঘটনাটি স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন সুলতানা রাজিয়া। তিনি নেছারাবাদ উপজেলা মহিলা দলের সদস্য এবং জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) পিরোজপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব।
জানা গেছে, সুলতানা রাজিয়া পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে জলাবাড়ি, সুটিয়াকাঠি ও গুয়ারেখা ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ৩ নম্বর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “জলাবাড়ি, সুটিয়াকাঠি ও গুয়ারেখা ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলাম। সামর্থ্য অনুযায়ী খরচ করেছি। আর ক্ষমতা নাই। কারো কোনো সহযোগিতা পাইনি।”
এ বিষয়ে সুলতানা রাজিয়া বলেন, “আমি নিজের টাকা-পয়সা খরচ করে নির্বাচন পরিচালনার কাজ করেছি। এখন আর পারছি না। আমাদের কোনো খরচ দেওয়া হচ্ছে না। তাই অত্যন্ত কষ্টের সঙ্গে স্বেচ্ছায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। তবে যতদিন বেঁচে আছি, বিএনপি করে যাব।”
এ প্রসঙ্গে নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাসির উদ্দীন তালুকদার বলেন,
“সে সৈকত সাহেবের লোক। আমি এত পারি না।”
অন্যদিকে নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মো. আব্দুল্লাহ আল বেরুনী সৈকত বলেন,
“মূলত সব ইউনিয়ন থেকে মহিলা নেত্রীদের একটি তালিকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে হবে। এরপর ন্যূনতম একটি সেন্টার খরচ দেওয়া হবে। হয়তো কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। বিষয়টি আমরা দেখছি।”
ঘটনাটি নির্বাচনী মাঠে বিএনপির সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক সমন্বয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
মন্তব্য করুন