
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে অতীতের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোঃ রফিকুল ইসলাম জামাল।
বুধবার সকাল থেকে রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলায় গণসংযোগ শেষে কাঁঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া হক্কোননুর দরবার শরীফ মাঠে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মোঃ রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন, তখন আমরা দলের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার কাছে তাঁর চিকিৎসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি সেই মানবিক আবেদনেও সাড়া দেননি।”
তিনি আরও বলেন, “পরবর্তীতে দেশনেত্রীর আপন ভাই-বোনরাও ব্যক্তিগতভাবে দরখাস্ত করেছিলেন, তবুও অনুমতি দেওয়া হয়নি।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “অথচ ওই সময় দেশের এমপি-মন্ত্রীরা সামান্য ঠান্ডা-জ্বর হলেই লন্ডন, ভারত কিংবা শ্রীলঙ্কায় গিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। এটি ছিল চরম বৈষম্য ও অমানবিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ।”
উঠান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন হক্কোননুর দরবার শরীফের পীর সাহেব আলহাজ মঞ্জিল মোর্শেদ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুহুল আমিন, মোহাম্মদ মেহেদী হাসান সোহাগ, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজাপুর উপজেলা আহ্বায়ক বাবু, রতন দেবনাথ, কাঁঠালিয়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ জালালুর রহমান আকন, সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন নিজাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন কবির, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুর রহমানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বক্তারা বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের কাছে পৌঁছাতে নেতাকর্মীদের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে সেলফি তোলার রাজনীতি পরিহার করে ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভোট চাওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, “জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই বিজয়ের প্রধান চাবিকাঠি।”
উঠান বৈঠক শেষে এক উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ঘটনায় শতাধিক আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী প্রধান অতিথি মোঃ রফিকুল ইসলাম জামালের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। এ সময় নবাগত নেতাকর্মীরা বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানজুড়ে স্থানীয় জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়, যা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে বলে মন্তব্য করেন উপস্থিত রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন