
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রাইভেটকারসহ চার হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় ইয়াবা পাচারে জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (আজ) সকালে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শীলখালী এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটক ব্যক্তি হলেন টেকনাফ থানাধীন গোদারবিল গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন পুতু (৬৩)। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি পাচার কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটির চালক। অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মাদক পাচারের একটি চালান টেকনাফের দিক থেকে দেশের ভেতরে প্রবেশ করবে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি বিশেষ দল শীলখালী এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে। চেকপোস্টে দায়িত্বরত সদস্যরা ওই এলাকায় আসা-যাওয়া করা যানবাহনের ওপর নজরদারি বাড়ান। একপর্যায়ে সন্দেহজনকভাবে একটি প্রাইভেটকার চেকপোস্টের কাছে এলে সেটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির সময় প্রাইভেটকারটির ভেতর বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় চার হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালক সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাকে আটক করা হয়। পরে জব্দকৃত ইয়াবা, প্রাইভেটকার এবং আটক ব্যক্তিকে আইনানুগ প্রক্রিয়ার জন্য বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও পাচারে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় টেকনাফ মাদক পাচারকারীদের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ কারণে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করেছে।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, ইয়াবা পাচার রোধে সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবির তৎপরতা বাড়ায় পাচারকারীরা নানা কৌশল অবলম্বন করছে। তবে বিজিবি জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এদিকে এই অভিযানে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সচেতন মহল মনে করছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতার মাধ্যমে টেকনাফসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
মন্তব্য করুন