
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। সরকারি নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন এলাকায় খুচরা ও পাইকারি দোকানে অতিরিক্ত দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে নিত্যদিনের রান্নাবান্না চালানোই এখন অনেক পরিবারের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে একটি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা। কিন্তু কালিয়াকৈরের বিভিন্ন বাজার ও দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বাস্তবে সেই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়। পাইকারি পর্যায়েও সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯৫০ টাকার মধ্যে, যা সরকারি দামের তুলনায় অনেক বেশি। ওমেরা, পেট্রোম্যাক্সসহ বিভিন্ন পরিচিত ব্র্যান্ডের গ্যাস সিলিন্ডারেও একই ধরনের বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় ভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ দোকানদারই ‘সরবরাহ সংকট’ কিংবা ‘দাম বাড়তি’—এই অজুহাতে ইচ্ছেমতো মূল্য হাঁকাচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, পাইকারি দাম বেশি হওয়ায় তারা খুচরা পর্যায়ে কম দামে বিক্রি করতে পারছেন না। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, বাস্তবে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
নিম্ন আয়ের মানুষেরা বলছেন, প্রতিদিনের আয় দিয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে বাড়তি দামে গ্যাস কিনে রান্না করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে রান্নার পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে, কেউ কেউ আবার কাঠ বা অন্যান্য বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন, যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।
মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। তারা জানান, মাসিক বাজেট এলপিজির বাড়তি খরচে এলোমেলো হয়ে গেছে। শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমিয়ে গ্যাসের বাড়তি দাম মেটাতে হচ্ছে।
স্থানীয় ভোক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বাজারে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন। তাদের দাবি, দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বাজার মনিটরিং জোরদার করে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাই অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কালিয়াকৈরের সকল পেশাজীবী ও ভোক্তা শ্রেণির মানুষ।
মন্তব্য করুন