
**নোয়াখালী:** জামায়াতে ইসলামী আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগে যাদের হাতে দেশের জনগণ নিরাপদ নয়, ক্ষমতায় গেলে সেই ঝুঁকি আরও বাড়বে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালীর মাইজদী শহরের জেলা স্কুল মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যারা ধৈর্য ধরতে পারেননি এবং বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত হয়েছেন, তাদের হাতে দেশের ক্ষমতা আসা জনগণের জন্য নিরাপদ নয়। ক্ষমতায় গেলে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে। কিন্তু যারা দেশের জন্য ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার প্রমাণ দিয়েছেন, তাদের হাতে দেশের ক্ষমতা দিলে একটি ভালোবাসামূলক ও সমৃদ্ধ দেশ গঠন সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষ ইতোমধ্যেই বুঝতে পেরেছে। তাই সারা বাংলায় ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে বাধ ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। শুধু নোয়াখালী নয়, আমি যেখানে যাচ্ছি মানুষের ভালোবাসা এবং সমর্থন দেখছি। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা যুদ্ধ করেছে, সেই যুব সমাজ এখন নতুন বাংলাদেশ দেখার জন্য মুখিয়ে আছে। তারা বুঝতে পেরেছে, ‘জুলাই চেতনা’ বাস্তবায়নে তাদের সমর্থন কোথায় যাবে।”
ডা. শফিকুর রহমান দেশের সরকারি কর্মচারীদের জন্যও স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, “দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য লড়াই শুরু হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য ও সঙ্গতিপূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত করতে পে কমিশনকে যথাযথ সুপারিশ প্রদান করা হবে। যাতে একজন কর্মকর্তা তার চাকরির পাশাপাশি অন্য কোনো রোজগারের সন্ধান করতে না হয়। টেবিলের নিচে ঘুষ দেওয়ার প্রবণতাও বন্ধ করতে হবে। যারা সততার পথ ছাড়বেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সমাবেশে নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমীর ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দও বক্তব্য দেন। তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ক্ষমতা কেবল অধিকার নয়, এটি দায়িত্বের সাথে দেশ ও জনগণের সেবা করার সুযোগ। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা তার বক্তব্যকে স্বাগত জানান এবং নতুন সরকারের মাধ্যমে দুর্নীতি ও অবিচারের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে লড়াই করার প্রেরণা পেয়েছেন।
মন্তব্য করুন