
কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিকল্পিত চাষাবাদের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে দেশের উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে আমবাগানের নিচে সরিষা চাষ এবং কীটনাশকবিহীন বেগুন উৎপাদনে সফলতা পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এতে যেমন বাড়ছে উৎপাদন, তেমনি বাড়ছে আয় ও আগ্রহ।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারি ইউনিয়নের কামারেরহাট বামনদল এলাকার কৃষক জিএম কিবরিয়া তার ১০ বিঘা আমবাগানের ফাঁকা জায়গায় সরিষা চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী এই সমন্বিত চাষ পদ্ধতি গ্রহণ করে তিনি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করেছেন। ফলে একদিকে যেমন জমির উর্বরতা বজায় থাকছে, অন্যদিকে সরিষা বিক্রি করে পাচ্ছেন বাড়তি আয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম জানান,
“আমবাগানের নিচে সরিষা চাষ জমির পুষ্টি ধরে রাখতে সাহায্য করে, আগাছা কমায় এবং কৃষকের জন্য এটি একটি লাভজনক ও টেকসই কৃষি মডেল।”
অন্যদিকে, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের তিনবিঘা করিডর এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন কৃষক আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীটনাশকবিহীন বেগুন চাষে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছেন। তারা সমতল জমিতে ‘পার্পোল কিং’ জাতের বেগুন রোপণ করে সংসারে এনেছেন আর্থিক সচ্ছলতা।
এই চাষে মালচিং পেপার মোড়ানো পদ্ধতি ব্যবহার করায় আগাছা দমন সহজ হয়েছে, পোকামাকড়ের আক্রমণ কমেছে এবং সেচের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ কমে লাভের পরিমাণ বেড়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন,
“আমরা কৃষকদের সার, উন্নত বীজ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি। স্বাস্থ্যবান্ধব ও বিষমুক্ত সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। এই প্রযুক্তিগুলো কৃষিতে এক ধরনের নীরব বিপ্লব তৈরি করছে।”
আমবাগানে সরিষা ও বিষমুক্ত বেগুন চাষ—দুই ক্ষেত্রেই কৃষকদের কঠোর পরিশ্রম, পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় তাদের জীবনমান ও আয়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। স্থানীয়ভাবে এসব সফলতা এখন অন্য কৃষকদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠছে।
মন্তব্য করুন