
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে লতিফপুর জোড়া ব্রীজ এলাকায় শুক্রবার দুপুরে বিসমিল্লাহ জম জম বেকারির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিটের কারণে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারখানার মালিক মোঃ জামিল উদ্দিন জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানায় কোনও কর্মী উপস্থিত ছিলেন না, ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে আগুনে কারখানার সম্পদের কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়নি।
কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের ওয়ারহাউস ইন্সপেক্টর ইখতেখার হোসেন রায়হান চৌধুরী নেতৃত্বে দুইটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ইন্সপেক্টর রায়হান চৌধুরী জানান, “স্থানীয়দের দ্রুত সহায়তার জন্য আমরা দুইটি ইউনিট নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো গেছে।”
স্থানীয়রা জানান, আগুনের ধোঁয়া ও জ্বলন্ত গন্ধ দূরদূরান্ত থেকে চোখে পড়ছিল। স্থানীয়রা প্রথমে হাত দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলেন, তবে তাতে কাজ হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের আগমন নিশ্চিত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তারা আরও বলেন, “ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।”
এই ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পুনরায় ঘটতে না পারে, সেজন্য কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনঃমূল্যায়ন করা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। তারা বলছেন, কারখানায় বৈদ্যুতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক নিয়মিত চেকিং করা অত্যন্ত জরুরি।
অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও প্রাথমিকভাবে কারখানার যন্ত্রপাতি ও কিছু কাঁচামালের ক্ষতি হয়েছে। মালিক মোঃ জামিল উদ্দিন বলেন, “আগুনে আমাদের কিছু উৎপাদন সামগ্রী এবং যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এড়ানো গেছে।”
স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর কারখানার আশেপাশের এলাকায় আগুনের ঝুঁকি কমেছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে আরো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন