
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে স্বাধীনবাংলা নিউক্লিয়াসের প্রতিষ্ঠাতা, মুক্তিসংগ্রামের অন্যতম প্রধান সংগঠক এবং বাঙালির তৃতীয় জাগরণের পথপ্রদর্শক সিরাজুল আলম খান ‘দাদা’-এর ৮৫তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রাজদরবার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিরাজুল আলম খান সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান রায়হানুল ইসলাম। এর আগে, আলীপুরে সিরাজুল আলম খানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সিরাজুল আলম খান সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোশারেফ হোসেন মন্টু এবং সঞ্চালনা করেন সিরাজুল আলম খানের অনুসারী আবুল কালাম আজাদ।
সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির মহাসচিব মনিরুজ্জামান চৌধুরী, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুবুর রহমান, নোয়াখালী জেলা জেএসডির সাধারণ সম্পাদক নুর রহমান চেয়ারম্যান, নোয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু নাছের মঞ্জু, দৈনিক মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার নাসির উদ্দিন বাদল, মুক্ত রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা মশিউর রহমান, সোনাইমূড়ী উপজেলা জেএসডির সভাপতি ও সাবেক ভিপি আবদুস ছাত্তার, শ্রমিক নেতা আবদুস ছোবহান, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক জোটের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ ওমর ফারুক সেলিম, সামাজিক শক্তির কেন্দ্রীয় নেতা জয়নাল আবেদিন, কমরেড মমিন উল্লাহ, জেলা জেএসডির যুগ্ম সম্পাদক মো. সাহাব উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক মজিবুর রহমান রুবেলসহ আরও অনেক রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
প্রধান আলোচক রায়হানুল ইসলাম বলেন, “বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন বাঙালি জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সিরাজুল আলম খানের ভূমিকা তাকে জাতির কাছে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর জনগণের মুক্তির সংগ্রাম সফল বাস্তবায়নের জন্য সিরাজুল আলম খান আমৃত্যু লড়াই করে গেছেন। তিনি আমাদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন—স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রাম, বাঙালির তৃতীয় জাগরণের পথ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রণীত ১৪ দফা কর্মসূচি।
রাষ্ট্র বিনির্মাণ প্রসঙ্গে রায়হানুল ইসলাম বলেন, “প্রবীণ ও তরুণদের মেধার সমন্বয় ঘটিয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের গণআকাঙ্ক্ষাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত করতে না পারলে জাতিকে আবারও পেছনের দিকে ফিরে যেতে হবে।”
আলোচনা সভায় বক্তারা সিরাজুল আলম খানের আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্তব্য করুন