
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (অবসরপ্রাপ্ত) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচন কমিশন কোনো ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ বা অনিয়ম বরদাশত করবে না এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে ভোলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, “এই নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ভোটারদের আস্থা। সকল ভোটার যেন নির্বিঘ্নে, নিরাপদ পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে—তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, ভোটার যে দলেরই হোক না কেন, সবার জন্য সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের অবশ্যই ভোটারদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমেই জয়ী হতে হবে। কোনো ধরনের ‘দুই নম্বরি’, কারচুপি বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকবে না। নির্বাচন কমিশন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবে না।
ভোটকেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। বলেন, “এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে কেউ শৃঙ্খলা ভঙ্গের চিন্তাও না করতে পারে। আর কেউ চিন্তা করলেও যেন তা বাস্তবায়নের সুযোগ না পায়।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কেবল একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক উৎসব। এই উৎসবকে সুন্দর ও অর্থবহ করতে হলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলকে নিরপেক্ষ ও পেশাদার ভূমিকা পালন করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ভোলা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলার পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার, সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুল ইসলাম। এছাড়াও সভায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাবৃন্দ, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্তব্য করুন