
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ঋণের চাপ সইতে না পেরে এক অটোরিকশা চালকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তির নাম লালমিয়া (৫৫)। তিনি কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর ইউনিয়নের তাল্লুক শিমুলতলী করাতিপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত নালু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, লালমিয়া দীর্ঘদিন ধরে পেশায় অটোরিকশা চালক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সংসারের খরচ, চিকিৎসা ও পারিবারিক বিভিন্ন প্রয়োজনে তিনি একাধিক ব্যক্তি ও সংস্থার কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকায় তিনি আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েন। এ অবস্থায় ঋণ পরিশোধের চাপ ও দুশ্চিন্তায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে জানান স্বজনরা।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (৩০ জানুয়ারি) ভোরে। প্রতিদিনের মতো ভোরবেলা অটোরিকশা নিয়ে কাজে বের না হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। তারা তাকে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে দেখেন, লালমিয়া ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছেন। বিষয়টি দেখে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।
পরবর্তীতে কালিয়াকৈর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইদুল ইসলাম জানান, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
নিহত লালমিয়ার আত্মহত্যায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, লালমিয়া একজন সহজ-সরল ও পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। ঋণের চাপ ও দারিদ্র্যই তাকে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে তারা মনে করছেন।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, আর্থিক সংকট ও ঋণের বোঝা কীভাবে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। সচেতন মহল মনে করছে, এমন মর্মান্তিক ঘটনা রোধে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা জোরদার করা জরুরি।
মন্তব্য করুন