
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস–২০২৬ উপলক্ষে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি, সুস্থ সবল জীবন গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের হলরুমে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ ও পরিবেশন—সব পর্যায়েই মান বজায় রাখা জরুরি। শিক্ষার্থীদের সচেতন হলে পরিবার ও সমাজে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক মো. আমিনুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন। তিনি বলেন, সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নেই। ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, যা ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারাও খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, খাবারে রাসায়নিক ব্যবহার, কৃত্রিম রং বা ক্ষতিকর উপাদান মেশানো বন্ধ করতে সামাজিক সচেতনতা জরুরি। নিয়মিত বাজার তদারকি, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করলে ভেজাল খাদ্যের প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ বিষয়ে ধারণা তৈরি হলে তারা ভবিষ্যতে নিরাপদ খাদ্য আন্দোলনের অগ্রভাগে ভূমিকা রাখতে পারবে বলেও মত দেন বক্তারা।
আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন এবং খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সচেতনতা সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের পাশাপাশি মোট ১৩ জন শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে তাদের উৎসাহিত করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
আয়োজকরা জানান, জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে এ ধরনের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা এবং সমাজে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। ভবিষ্যতেও জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তারা জানান।
মন্তব্য করুন