
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার তাফালবাড়ী ক্লাসিক কিন্ডারগার্টেন-এ সম্প্রতি দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নবীনবরণ ও পিকনিক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার ও সোমবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা আনন্দ-উদ্দীপনার সঙ্গে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে এবং স্কুলের প্রাঙ্গণ উল্লাসের সঙ্গে ভরে ওঠে।
উদ্বোধনীতে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে নতুন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এরপর অনুষ্ঠান শুরুর পর শিক্ষার্থীরা দৌড়, বল নিক্ষেপ, ঝুলন্ত দৌড়, সাঁতার প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিটি খেলার সময় শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, আবেগ এবং সহযোগিতার দৃশ্য দর্শকদের আনন্দিত করে। ক্রীড়ার পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষার্থীরা গান, নৃত্য ও নাট্য পরিবেশনা উপস্থাপন করে। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে, বিশেষত অভিভাবক ও অতিথিদের মধ্যে উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল নবীনবরণ। বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ নতুন শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে স্কুল জীবনের সঙ্গে তাদের আত্মীকভাবে যুক্ত করেছেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানায় এবং বিদ্যালয়ের সামাজিক ও শিক্ষামূলক পরিবেশের সাথে পরিচিত হয়।
পিকনিকের আয়োজনও করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা একত্রে খেলা, গান ও খেলাধুলার মাধ্যমে আনন্দের মুহূর্ত উপভোগ করে। এ ধরণের কার্যক্রম শিশুদের মধ্যে সহনশীলতা, দলগত কাজের দক্ষতা এবং সামাজিকীকরণের চর্চা বৃদ্ধি করে।
অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন সাউথখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহীদুল আলম লিটন। এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাফালবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মানিক চাঁদ রায়, শিক্ষক মাওলানা মোসারেফ হোসেন, দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার সাংবাদিক ও শিক্ষক মোঃ আব্দুল মালেক রেজা, ৭১ টিভির সাংবাদিক নজরুল ইসলাম আকন, ক্লাসিক কিন্ডারগার্টেনের সভাপতি মোঃ আব্বাস উদ্দিন, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইসহাক আলী মাতুব্বর, আরটিভি টেলিভিশনের সাংবাদিক নাজমুল ইসলাম, দৈনিক নিরপেক্ষ পত্রিকার সাংবাদিক মুন্সি মোঃ ওমর ফারুক ও মোঃ নূরুল ইসলাম মিন্টু, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা এবং শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ।
প্রধান অতিথি ও অতিথিরা শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করেন এবং তাদের শিক্ষার প্রতি উৎসাহ ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা ও সৃজনশীল কার্যক্রমের প্রশংসা করে অতিথিরা বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্তত দুই দিনব্যাপী এই বার্ষিক অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক সকলের মধ্যে আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, শিশুদের প্রতিভা, সৃজনশীলতা এবং অংশগ্রহণমূলক শিক্ষার বিকাশে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।
মন্তব্য করুন