
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় একটি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আনুমানিক তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সময়মতো ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় জনগণ ও সেনাবাহিনীর দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছে এলাকাবাসী।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাত আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে উপজেলার ৫ নম্বর উল্টাছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আলীনগর এলাকায়। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি স্থানীয় বাসিন্দা রঙ্গু মিয়ার ছেলে তুলা মিয়া (৩৫)-এর মালিকানাধীন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার সময় তুলা মিয়ার পরিবারের সদস্যরা রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। রান্নার একপর্যায়ে হঠাৎ করে গ্যাসের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরিবারের সদস্যরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘরের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে ফেটে গেলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় দুই কক্ষবিশিষ্ট টিনশেড বসতবাড়িটি সম্পূর্ণভাবে আগুনে পুড়ে যায়। ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, রান্নার সামগ্রী, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ নগদ প্রায় ৯৩ হাজার টাকা আগুনে ভস্মীভূত হয়। আগুনের লেলিহান শিখা ও ঘন ধোঁয়ায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে পানছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। এ সময় স্থানীয় জনগণ এবং নিকটস্থ সেনাবাহিনীর সদস্যরাও ফায়ার সার্ভিসকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়, ফলে পাশের বসতঘরগুলো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা এলাকাবাসীর জন্য স্বস্তির বিষয়। তবে আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি সর্বস্ব হারিয়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। খোলা আকাশের নিচে পড়ে গেছে পরিবারটির সদস্যরা। স্থানীয়রা তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে আরও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, পাহাড়ি এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে অসতর্কতার কারণে মাঝেমধ্যেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই নিয়মিত সিলিন্ডার পরীক্ষা, নিরাপদ ব্যবহার এবং অগ্নি নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন