
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সকল নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে এবার কারাবন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে জয়পুরহাট জেলা কারাগারের নিবন্ধিত বন্দিদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৪৫ জন সফলভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলা কারাগারে অবস্থানরত মোট ৫২ জন বন্দি ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত তাদের মধ্যে ৪৫ জন সফলভাবে ভোট প্রদান সম্পন্ন করেছেন। এ ভোটগ্রহণ কার্যক্রম কারা কর্তৃপক্ষ ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বয়ে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার তোফায়েল আহম্মেদ খাঁন জানান, ডাক বিভাগের মাধ্যমে কারাগারে মোট ৪৮টি পোস্টাল ব্যালট পৌঁছেছে। এসব ব্যালটের মধ্য থেকে ৪৫টি ব্যবহার করে বন্দিরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। অবশিষ্ট তিনজন ভোটারের মধ্যে দুইজন জামিনে মুক্তি পাওয়ায় এবং একজন অন্য কারাগারে বদলি হওয়ায় বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যালটগুলো ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া বর্তমানে আরও চারটি পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কারা কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করেছে, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নির্দেশনা, বিধিবিধান এবং স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করে বন্দিদের ভোটদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়।
এদিকে জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার প্রতি দেশি ও প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। জয়পুরহাট জেলায় মোট ৭ হাজার ৪৭৪ জন ভোটার পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৫ হাজার ৯৭৩ জন এবং নারী ভোটার ১ হাজার ৫২৫ জন।
জেলা নির্বাচন অফিসার মাহমুদ হাসান বলেন, “পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করেছে। বিশেষ করে কারাবন্দি ও প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়াবে।”
নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের মতে, কারাবন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করা একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র প্রমাণ করেছে যে, আইনি সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নাগরিক অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই উদ্যোগ গণতন্ত্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন