
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথ, গুণবতী ও আলকরা ইউনিয়নে নির্বাচনী সহিংসতা ও সংঘর্ষের খবর অনলাইন নিউজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি পর্যায়ক্রমে পুরো উপজেলায় বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইসলাম শান্তির ধর্ম—মারামারি, কাটাকাটি, ভাঙচুর ও সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আপনি যে দলই করুন না কেন, মনে রাখতে হবে—আজ যাকে এমপি বানাতে গিয়ে আপনি সংঘাতে জড়াচ্ছেন, তিনি এমপি হওয়ার পর আপনার খোঁজ নেবেন না, আপনার নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবেন না। অথচ যিনি আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছেন, তিনি সুযোগ পেলে সেই আঘাতের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার অপেক্ষায় থাকবেন। এভাবেই একে একে প্রতিশোধের চক্র চলতে থাকে—ধরা, মারা, কাটাকাটি, কেন্দ্র দখল—সবই যেন ক্ষমতার লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলা।
আমরা অতীত থেকে দেখে আসছি—এক সময় যাদের মনে করা হতো অপ্রতিরোধ্য, অনেক এমপি-মন্ত্রী আজ অস্তিত্বহীন, অজানা পথে আত্মগোপনে। একসময় যাদের চিরস্থায়ী মনে হয়েছিল, কালের বিবর্তনে তাদের পরিণতি সবাই দেখেছে। সেখান থেকে অন্তত শিক্ষা নেওয়া উচিত। তাহলে কেন এই শান্তির জনপদ চৌদ্দগ্রামকে অশান্তির পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে?
একটু ভেবে দেখুন—আপনি যাকে আঘাত করছেন, শুধু তাকেই নয়; তার পরিবারকে, তার বাড়িকে, তার বৃদ্ধ মা–বাবাকেও আঘাত করছেন। আগামীকাল যদি ঠিক একইভাবে আপনার বাড়িতে, আপনার মা কিংবা আপনার আত্মীয়-স্বজনের ওপর হামলা হয়, তখন আপনি কী করবেন? আপনি যেমন প্রতিশোধ নিতে চাইবেন, ঠিক তেমনি আজ যাদের ওপর আপনি হামলা করছেন, তারাও সেই সুযোগের অপেক্ষায় থাকবে।
তাহলে কেন অন্যায় করে নিজের ঘরছাড়া হওয়ার পথ তৈরি করবেন? কেন শান্তির চৌদ্দগ্রামকে অশান্ত করবেন? মনে রাখতে হবে—অন্যায় করে যে, আর অন্যায় সহে যে—উভয়ই অপরাধী।
আসুন, আমরা এক ছাদের নিচে বসবাস করি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আপনার ইচ্ছামতো, আপনার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। অন্যায় থেকে বিরত থাকি। কেউ অপরাধ করলে প্রশাসনকে জানাই। নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া থেকে বিরত থাকি। আইন চলুক আইনের গতিতে।
আমরা জাতি হিসেবে আশা করি, নির্বাচনের আগে যেসব ইউনিয়ন ঝুঁকিপূর্ণ বা সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত, প্রশাসন সেগুলোর প্রতি বিশেষ নজর দেবে। আগামী ১২ তারিখ পর্যন্ত কোনো সহিংসতা হবে না—এই প্রত্যাশায় একে অপরের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামাজিকভাবে বসবাস করি।
সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করুন। শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সবাই সহযোগিতা করি। আগামীর বাংলাদেশ হোক সংঘাতমুক্ত বাংলাদেশ।
একটি কথা মনে রাখবেন—কোনো এমপি বা মন্ত্রীর ভাই মারা যাবে না। মরবো আমি আর আপনি। আর তারা বহাল তবিয়তেই থাকবে। তাই কোনো অবস্থাতেই এই সুযোগ দেওয়া যাবে না।
মন্তব্য করুন