
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)-এর নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় মাদকবিরোধী তৎপরতা আরও জোরদার হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানাধীন বোগলা কাঁঠাল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— গোমস্তাপুর থানাধীন সাদেকুল ইসলাম ফিটুর স্ত্রী মোছা. সুলেখা বেগম (৪১), তার স্বামী সাদেকুল ইসলাম ফিটু (৩৫) এবং সুলতান বাস্ফোরের ছেলে শ্রী সোহেল বাস্ফোর (৩৬)। তিনজনই গোমস্তাপুর উপজেলার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে ডিএনসি।
অভিযান চলাকালে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে মোট ৩০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজার মধ্যে পৃথকভাবে এক আসামির কাছ থেকে ২০০ গ্রাম এবং অপর দুই আসামির কাছ থেকে ৫০ গ্রাম করে মোট ১০০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অভিযানের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক মামুনুর রশীদ সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দাখিল করেন। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালমা রুমা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে প্রথম আসামি মোছা. সুলেখা বেগমকে ৩ (তিন) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। অপর দুই আসামি সাদেকুল ইসলাম ফিটু ও শ্রী সোহেল বাস্ফোরকে ১ (এক) মাস ২৫ (পঁচিশ) দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ৫০০ (পাঁচশত) টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অনাদায়ে নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী অতিরিক্ত সাজা কার্যকর হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মাদক সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ অভিশাপ। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ডিএনসির মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে তারা আশ্বাস দেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ডিএনসির এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিকভাবে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন