
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চাঁদনিমুখা এলাকায় প্রধান সড়কের একেবারে মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই চলছে যান চলাচল। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ এই অবস্থায় সড়কটি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকরা। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
গাবুরা ইউনিয়ন ও দ্বীপ ইউনিয়নের সংযোগকারী এই সড়কটি স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শত শত মোটরসাইকেল, ইজি-বাইক, থ্রি-হুইলার ও মালবাহী ভ্যান চলাচল করে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও রোগীবাহী যানবাহনের জন্য সড়কটি অপরিহার্য। অথচ সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি পুরো এলাকাকে পরিণত করেছে স্থায়ী ঝুঁকির অঞ্চলে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তার একেবারে মাঝ বরাবর স্থাপিত ওই বিদ্যুতের খুঁটির চারপাশ দিয়ে খুব সংকীর্ণভাবে যানবাহন চলাচল করছে। দ্রুতগতির মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এটি যেন এক অদৃশ্য মরণফাঁদ। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে রাতের বেলা ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় খুঁটিটি দূর থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যায় না, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
এলাকার কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক জানান,
“এই রাস্তায় নতুন কেউ চললে হুট করেই সামনে খুঁটি পড়ে। একটু অসাবধান হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অনেক সময় হঠাৎ ব্রেক করতে গিয়ে নিজেরাই পড়ে যাই।”
স্থানীয়রা আরও জানান, সড়ক প্রশস্তকরণ বা সংস্কারের সময় খুঁটিটি সরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অবহেলার কারণে তা করা হয়নি। ফলে রাস্তার মাঝখানে জায়গা কমে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন পাশ কাটাতে গিয়ে প্রায়ই হিমশিম খেতে হয়। এতে যানজটের পাশাপাশি ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে নিয়মিত।
রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় খুঁটিটি আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। অনেক সময় থ্রি-হুইলার ও ইজি-বাইকগুলো এখানে এসে হঠাৎ থেমে যেতে বাধ্য হয়, যা পেছন থেকে আসা যানবাহনের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিদ্যুৎ বিভাগ, সড়ক বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে দ্রুত এই বিদ্যুতের খুঁটিটি সড়কের মাঝখান থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হোক। জনস্বার্থে এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিষয়টি দ্রুত ও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন