
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রবাসী অধ্যুষিত ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সুনামগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনী উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপি, আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সক্রিয় প্রচারণায় ভোটের মাঠ এখন জমজমাট। ধানের শীষ, তালা ও ঈগল—এই তিন প্রতীকের মধ্যে কে শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে, তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনা ও কৌতূহল।
সুনামগঞ্জ-৩ আসন জেলার অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এ অঞ্চলে শ্রমজীবী মানুষ, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস বেশি। দীর্ঘদিন ধরে বন্যা, জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট এবং মাদক সমস্যা এখানকার প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত। ফলে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নিরাপদ জীবনযাপনের বিষয়গুলোই এবারের নির্বাচনে ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
এই আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির তিনবারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ। তফসিল ঘোষণার আগেই তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, দোয়া মাহফিল, মতবিনিময় সভা এবং গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। তিনি জানান, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের মানুষ শান্তি ও নিরাপদ জীবন চায়। রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিরসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন তাঁর অগ্রাধিকার। বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার আলোকে তিনি এ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চান।
আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি) থেকে ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সৈয়দ তালহা আলম। দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় এ আসনে তাঁর একটি শক্ত ভিত্তি রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি বলেন, জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ—দুই উপজেলার প্রতিটি এলাকা তাঁর জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তিনি সবার কাছ থেকেই ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন। পরিবর্তনের প্রত্যাশায় মানুষ এবার ঈগল প্রতীকের দিকে ঝুঁকছে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন তালা প্রতীক নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি বলেন, মানুষ ধান, নৌকা ও লাঙ্গলের রাজনীতি দেখেছে; এবার তারা বিকল্প চায়। ইনসাফভিত্তিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশায় তালা প্রতীকের প্রতি জনসমর্থন বাড়ছে। নির্বাচিত হলে তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস সংকট ও জলাবদ্ধতার মতো সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭২৮ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ৯২১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। এবার এই আসনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা সৎ, যোগ্য ও কর্মক্ষম জনপ্রতিনিধি চান। দীর্ঘদিনের সমস্যা যিনি বাস্তবভাবে সমাধান করতে পারবেন, তাকেই ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে চান তারা। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত সুনামগঞ্জ-৩ আসনে ভোটারদের মন জয় করে কে—ধানের শীষ, তালা না কি ঈগল।
মন্তব্য করুন