
কক্সবাজার–টেকনাফ মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও মিনিটমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং চারজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (সকাল) টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নাটমুড়া পাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজারগামী একটি পালকি বাসের সঙ্গে লেদাগামী যাত্রীবাহী একটি মিনিটমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মিনিটমটমটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মিনিটমটমের চালকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম লেদা এলাকার বাসিন্দা লোকমান হাকিমের ছেলে মো. লালু (৪৫) এবং একই উপজেলার পশ্চিম ফুলের ডেইল এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেনের দুই বছর বয়সী কন্যা মুনতাহা। নিহত মো. লালু পেশায় মিনিটমটমের চালক ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় মিনিটমটমটিতে চালকসহ মোট ছয়জন যাত্রী অবস্থান করছিলেন।
দুর্ঘটনায় আহত চারজনকে স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে লেদা আইএমও হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতরা হলেন হ্নীলা ইউনিয়নের নাটমুড়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আবদুল্লাহ (৩০), মো. বদিউজ্জামান (৪০), মোসা. ফাতেমা (২০) এবং ইসমত আরা (৪০)। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, কক্সবাজার–টেকনাফ মহাসড়কে বাস ও মিনিটমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। নিহতদের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, কক্সবাজার–টেকনাফ মহাসড়কে নিয়মিত দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল এবং নিয়ন্ত্রণহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত সড়ক নিরাপত্তা জোরদার, গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মন্তব্য করুন