
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের আওতায় নির্মাণাধীন গণসৌচাগার প্রকল্পে চুরির ঘটনা ঘটেছে। মতিহার থানাধীন মোহনপুর ফ্লাইওভারের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত একটি নির্মাণাধীন গণসৌচাগারের স্টকইয়ার্ড থেকে বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জানে আলম ট্রেডার্স-এর স্বত্বাধিকারী মো. ফারুক হোসেন মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, গত ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে রাত আনুমানিক ২টার দিকে অজ্ঞাতনামা চোরেরা নির্মাণাধীন পাবলিক টয়লেট প্রকল্পের কাজ চলাকালীন সময়ে স্টকইয়ার্ডে রাখা মূল্যবান নির্মাণসামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলটি মতিহার থানাধীন বিহাস (মোহনপুর) সংলগ্ন ফ্লাইওভারের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত।
চুরি হওয়া গণসৌচাগার প্রকল্পটি রাজশাহী মহানগরীর “সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের আওতাভুক্ত। প্রকল্পটির টেন্ডার প্যাকেজ নম্বর ডব্লিউপি-৫৪(অ) এবং টেন্ডার আইডি নম্বর ৭৩৯৪৩৩। এই প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডে মোট ছয়টি আধুনিক গণসৌচাগার নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ছয়টির মধ্যে অন্তত তিনটি গণসৌচাগারের নির্মাণসামগ্রী স্টকইয়ার্ড থেকে চুরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ঠিকাদার মো. ফারুক হোসেন জানান, চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ১২ লক্ষাধিক টাকা। চোরেরা যে সব মালামাল নিয়ে গেছে তার মধ্যে রয়েছে—রড, সিমেন্ট, সিরামিক টাইলস, চায়না টাইলস, সাবমার্সিবল পাম্প, কলাপসিবল গেট, বিভিন্ন ধরনের স্যানিটারি সামগ্রী, ইলেকট্রিক্যাল মালামাল, মিস্ত্রিদের ব্যবহৃত হাতিয়ারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ উপকরণ। এসব সামগ্রী প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে জানান তিনি।
চুরির ঘটনার পরপরই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে হারানো মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কোনো মালামালের সন্ধান না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন ভুক্তভোগী ঠিকাদার। তিনি বলেন, “এই চুরির কারণে কাজের অগ্রগতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল কালাম বলেন, “বিষয়টি এখনো আমার সরাসরি জানা নেই। থানায় এসে বিস্তারিত জানলে বলতে পারবো। যদি এ ধরনের কোনো অভিযোগ দায়ের হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রকল্পে এ ধরনের চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে নগর উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
মন্তব্য করুন