
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় পুলক হালদার (২২) নামের এক কৃষকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের পীরার বাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে কোটালীপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত পুলক হালদার পীরার বাড়ি গ্রামের পরিতোষ হালদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে পুলক হালদার মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। তিনি পলোটানা বিলের মধ্যে নিজের জমির ধামের কাছে মাছ ধরতে যান। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজির পর জমির পাশের একটি ভিটার ওপর তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, ওই জমির বীজতলায় ইঁদুর দমনের জন্য বিদ্যুতের ফাঁদ পাতা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, পুলক হালদার অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের তারে স্পর্শ হয়ে মারা যেতে পারেন।
তবে নিহতের পরিবার এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে। পুলক হালদারের বাবা পরিতোষ হালদার বলেন, “আমার ছেলের সঙ্গে এলাকার কিছু লোকের পূর্ব বিরোধ ছিল। সুযোগ বুঝে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়নি।”
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দুলাল বাড়ৈ বলেন, “দেখে মনে হচ্ছে বিদ্যুতের তারে মৃত্যু হয়েছে। তবে আমাদের সন্দেহ আছে—এটি হত্যাকাণ্ডও হতে পারে।”
কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রিয়াদ মাহমুদ জানান, “প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর আলামত পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন