
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় শিক্ষাসফরে এসে সাঁতার কাটতে নেমে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। নিহত শিক্ষার্থীর নাম আবিদ আহানাফ সোয়াদ (১৫)। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোদাগাড়ীর দিগ্রাম এলাকায় অবস্থিত সাফিনা পার্কের ওয়াটার পুলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আবিদ বগুড়া জেলার ইকরা মডেল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে পরিবারের সঙ্গে বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় বসবাস করত। তবে তার স্থায়ী ঠিকানা রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার মাছখড়িয়া মাধবপুর সৈয়দপুর গ্রামে। আবিদের বাবা আবু হাসিব সোহরাওয়ার্দী সন্তানের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষাসফরের অংশ হিসেবে আবিদসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী সকাল থেকে সাফিনা পার্কে অবস্থান করছিল। দিনভর বিভিন্ন রাইড উপভোগ করার পর বিকালের দিকে তারা পার্কের ওয়াটার পুলে নামেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, পুলে লাফ দেওয়ার সময় আবিদ হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে নাক, বুক ও মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এরপর তিনি পানিতে তলিয়ে যান।
সহপাঠীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার শুরু করলে পার্ক কর্তৃপক্ষ ও উপস্থিত শিক্ষকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবিদ আহানাফ সোয়াদকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পার্কজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও কান্নার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে এসে মরদেহ শনাক্ত করেন। সন্তানের নিথর দেহ দেখে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির জানান, প্রাথমিকভাবে নিহত শিক্ষার্থীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ওসি হাসান বাসির বলেন, “দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তে যদি পার্ক কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কারও গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে শিক্ষাসফরের মতো আনন্দঘন আয়োজনে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষামহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষাসফরের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং ওয়াটার রাইড ব্যবহারে প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড ও পর্যাপ্ত নজরদারি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
মন্তব্য করুন