
কক্সবাজারের টেকনাফে নাফনদী সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী হুজাইফা সুলতানা আফনান (৯) দীর্ঘ ২৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মারা গেছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত হুজাইফা টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল তেচ্ছিব্রীজ এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন ও সুমাইয়া আক্তার দম্পতির প্রথম সন্তান। সে স্থানীয় লম্বাবিল হাজ্বী মোহাম্মদ হোছন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। পরিবারের সদস্য ও শিক্ষকরা জানান, পড়াশোনায় সে ছিল অত্যন্ত মনোযোগী ও ভদ্র স্বভাবের।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় লম্বাবিল তেচ্ছিব্রীজ জানাজা মাঠে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ভোরে টেকনাফের লম্বাবিল–উনছিপ্রাং সীমান্তের বিপরীতে নাফনদীর তোঁতার দ্বীপ এলাকায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র গ্রুপ এবং মিয়ানমারের কুমিরখালী এলাকায় সক্রিয় আরাকান আর্মির সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া একটি গুলি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে লম্বাবিল তেচ্ছিব্রীজ এলাকায় এসে পড়ে এবং হুজাইফার মাথায় লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে সে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুতুপালং হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ ২৭ দিন আইসিইউসহ বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে শিশুটি মৃত্যুর কাছে হার মানে।
ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ৫৩ জন দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে ১ জন বাঙালি, ২ জন রোহিঙ্গা জেলে এবং ৫০ জন স্বশস্ত্র গ্রুপের সদস্য রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
হুজাইফার মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। শোকাহত পরিবার, স্বজন ও সহপাঠীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে লম্বাবিল এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্তে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন