
নড়াইল সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রাম থেকে এক ভ্যান চালকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম জাহাঙ্গীর হোসেন সানা (৫৫)। তিনি পেশায় একজন ভ্যান চালক ছিলেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের পর তার ব্যবহৃত ভ্যানটি নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নড়াইল সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত জাহাঙ্গীর হোসেন সানা যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটি গ্রামের নয়েজ সানার ছেলে। তিনি প্রায় ১৫ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে নড়াইলে আসেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নড়াইল সদর উপজেলায় ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। গত এক বছর ধরে তিনি চাঁদপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের বাড়িটি দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন এবং সেখানে একাই বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে ভ্যান চালিয়ে নিজ বাসায় ফেরেন জাহাঙ্গীর। পরদিন রোববার সকাল থেকে তাকে বাড়ির বাইরে দেখা না যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জাহাঙ্গীরের ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে তারা তাকে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় জাহাঙ্গীরের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
খবর পেয়ে দুপুরের দিকে নড়াইল সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহতের স্ত্রী বিউটি বেগম বলেন, “গত দুই দিন ধরে পারিবারিক মান-অভিমানের কারণে স্বামীর সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল না। খবর পেয়ে এসে দেখি তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং তার ভ্যানটি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক তদন্ত দল কাজ করছে। বিভিন্ন দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত চলছে এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে।
মন্তব্য করুন