
দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আনন্দ, গর্ব ও আবেগের প্রকাশ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের ভোটার অ্যাডভোকেট মাসুমা আক্তার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বহু প্রতীক্ষার পর ভোট দিতে পেরে তার ভেতরে যেন ‘ঈদের আনন্দ’ কাজ করছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগকে তিনি জীবনের এক বিশেষ ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় রাজধানীর টিকাটুলির কামরুন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন মাসুমা আক্তার। নিজেকে ওই কেন্দ্রের প্রথম ভোটার দাবি করে তিনি জানান, নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আয়োজিত এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারা তার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভোটকেন্দ্রে শান্ত, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পেরে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মাসুমা আক্তার বলেন, “নির্বাচন কেবল একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়; এটি জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, ত্যাগ ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতিফলন। বহু বছর পর ভোট দিতে পেরে সত্যিই মনে হচ্ছে ঈদের মতো আনন্দ।” প্রথম ভোটার হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারাকে তিনি গর্বের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিবেশে সম্পন্ন হবে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও জানান, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন করেছেন। তার প্রত্যাশা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার যথাযথ প্রতিদান দেবেন এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, কল্যাণমুখী ও উন্নয়নশীল সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
ঢাকা-৬ আসনটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৪ থেকে ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯২ হাজার ২৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫২ হাজার ৫১৯ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৬১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন। ভোটগ্রহণ উপলক্ষে কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী জোটের মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টি, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ কংগ্রেস ও গণঅধিকার পরিষদ-জিওপির প্রার্থীরাও নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন।
দীর্ঘ বিরতির পর ভোটাধিকার প্রয়োগে সাধারণ ভোটারদের মাঝে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, অ্যাডভোকেট মাসুমা আক্তারের অভিজ্ঞতা তারই প্রতিচ্ছবি। তার মতো অনেক ভোটারের প্রত্যাশা—এ নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং জনগণের মতামতের সঠিক প্রতিফলন ঘটাবে।
মন্তব্য করুন