
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তদের সশস্ত্র হামলায় বিরাজ আলী (৪৫) নামের বিএনপির এক সক্রিয় কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত বিরাজ আলী ওই ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের আমিরুদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী এবং স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সেদিনও বিরাজ আলী আড়ানী বাজারে ব্যবসায়িক কাজ শেষে মোটরসাইকেলে করে নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরছিলেন। রাত ঘনিয়ে আসার সময় রামচন্দ্রপুর বাজারের কাছাকাছি পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলে করে আসা দুই হেলমেটধারী ব্যক্তি তাঁর পথরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। আকস্মিক এই হামলায় তিনি গুরুতর জখম হন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে লুটিয়ে পড়েন।
বিরাজ আলীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা দ্রুত মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী গুরুতর আহত অবস্থায় বিরাজ আলীকে উদ্ধার করে প্রথমে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন।
এ বিষয়ে চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। পুলিশ বলছে, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ হামলা নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন