
দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে বিরল এক কৃতিত্ব অর্জন করেছেন জয়নুল আবদিন ফারুক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-২ (সেনবাগ–সোনাইমুড়ী আংশিক) আসন থেকে তিনি টানা ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি রাজনীতিতে ‘ডাবল হ্যাটট্রিক’-এর অনন্য রেকর্ড গড়লেন, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক পেয়েছেন ৮২ হাজার ৩১১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৫৪ ভোট। ফলে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক।
জয়নুল আবদিন ফারুক বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা এবং জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় ইস্যুতে সক্রিয় ও বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। স্থানীয়ভাবে তার সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য তাকে বারবার জনগণের আস্থা অর্জনে সহায়তা করেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।
ভোটগ্রহণের শুরু থেকেই সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী এলাকায় তার পক্ষে জনসমর্থনের জোয়ার লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হয়। শেষ পর্যন্ত সেই জনসমর্থনই বিজয়ের মুকুট এনে দেয় তার মাথায়।
ঐতিহাসিক জয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, “এই বিজয় আমার নয়, এই বিজয় সেনবাগ ও সোনাইমুড়ীর আপামর জনসাধারণের। এই বিজয় আমাদের নেতা তারেক রহমান এর। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এলাকার মানুষ আমাকে বারবার ভালোবেসে আগলে রেখেছেন। আমি জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে এই এলাকার মানুষের সেবা করে যেতে চাই।”
জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী এলাকায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও আতশবাজির মাধ্যমে বিজয় উদযাপন করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়; সমর্থকরা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তায় ভরিয়ে দেন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য তার অভিজ্ঞতা ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অগ্রগতি এবং তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। টানা ষষ্ঠবারের এই জয় নোয়াখালীর রাজনীতিতে জয়নুল আবদিন ফারুকের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় ও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন